

পাহাড় তৈরির আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?
পাহাড় তৈরির আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মূলত ১৯৬৩ সালে শুরু হওয়া প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে [২২]। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবী কোনো স্থির বা সংকুচিত হতে থাকা বস্তু নয়, বরং এটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং এর উপরিভাগ কতগুলো বিশাল পাতের সমন্বয়ে গঠিত যারা ক্রমাগত গতিশীল [১৭, ৫৪]। উৎসগুলোর ভিত্তিতে এই আধুনিক ব্যাখ্যার মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
প্লেট টেকটোনিক্স ও পরিচলন স্রোত:
ভূ-অভ্যন্তরে ম্যান্টল স্তরে উৎপন্ন পরিচলন স্রোত (Mantle convection) এই পাতগুলোকে চালিত করে। যখন সমুদ্রতলের পাতগুলো শীতল ও ভারী হয়ে ম্যান্টলের দিকে তলিয়ে যায় (যাকে সাবডাকশন বলা হয়), তখন তা পুরো পাতটিকে নিজের দিকে টেনে নেয় এই প্রক্রিয়ার ফলেই মহাদেশগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে এবং পর্বতমালা তৈরি হয়।
মহাদেশীয় সংঘর্ষ ও পর্বত গঠন:
হিমালয় বা অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার মতো বিশাল পর্বতশ্রেণীগুলো তৈরি হয়েছে দুটি মহাদেশীয় ভূখণ্ডের সরাসরি সংঘর্ষের ফলে [৪৬]। মাউন্ট এভারেস্টের অস্তিত্ব এই প্লেট টেকটোনিক্স প্রক্রিয়ারই একটি ফলাফল [৪৬]। তবে সব পাহাড় কেবল মহাদেশীয় সংঘর্ষে তৈরি হয় না; যেমন কানাডিয়ান রকিজ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জ বা ছোট ভূখণ্ড মহাদেশের সাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে। আবার কলোরাডো রকিজের মতো পাহাড় কোনো সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই সমুদ্রতলের একটি ভাসমান পাতের চাপের কারণে তৈরি হয়েছে ।
ক্রিটিক্যাল টেপার থিওরি (Critical Taper Theory):
আধুনিক বিজ্ঞান পাহাড়ের গঠনকে একটি "বুলডোজারের সামনে থাকা বালুর স্তূপের" সাথে তুলনা করে। এই তত্ত্বে বলা হয়েছে, একটি ক্রমবর্ধমান পর্বতমালা একটি অস্থির বালুর স্তূপের মতো আচরণ করে, যা ক্রমাগত নতুন নতুন ভাঁজ (Folding) ও ফাটল (Faulting) তৈরির মাধ্যমে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
ক্ষয়প্রক্রিয়া ও জলবায়ুর ভূমিকা: গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে, পাহাড় তৈরি কেবল টেকটোনিক শক্তির বিষয় নয়; এতে ক্ষয়প্রক্রিয়া (Erosion) এবং জলবায়ুর বিশাল প্রভাব রয়েছে। বৃষ্টিপাত এবং ক্ষয়প্রক্রিয়া পাহাড়ের উপরিভাগ থেকে পাথর সরিয়ে ফেলে পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, আবহাওয়া এবং ক্ষয়প্রক্রিয়া পাহাড়ের ভেতরকার স্থাপত্য কেমন হবে তা নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সামগ্রিকভাবে, আধুনিক ভূ-তত্ত্ব অনুযায়ী পর্বত গঠন হলো ভূ-অভ্যন্তরের তাপীয় শক্তি এবং উপরিভাগের আবহাওয়ার এক নিরন্তর ও জটিল মিথস্ক্রিয়া, যা পৃথিবীকে সর্বদা পুনর্যৌবনশীল রাখে।
Before you go ...
We're building a community of experts dedicated to rebuilding trust and serving the public by making knowledge available to everyone. Join us at the beginning of our journey and receive a curated list of articles in your inbox twice a week. Be among our first subscribers!






