মানবশূন্য ভবিষ্যতের দর্শন

এক্সিলারেশনিজমের দ্বিমুখী সংকট ও সমকালীন প্রেক্ষাপট
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভূ-খণ্ডে ‘এক্সিলারেশনিজম’ (Accelerationism) শব্দটি একটি গভীর তাত্ত্বিক ও কৌশলগত সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে এটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসীদের ইশতেহারে ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি-অভিজাতদের (Tech-bros) বয়ানে এটি একটি ‘প্রো-হিউম্যান’ বা মানবহিতৈষী ইউটোপিয়া গড়ার হাতিয়ার হিসেবে চিত্রিত। অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ASIO-র ডিরেক্টর-জেনারেল মাইক বার্গেস যখন এই মতাদর্শকে নব্য-নাৎসিবাদের সমার্থক এবং জননিরাপত্তার জন্য ‘probable’ বা সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন এটি মূলত ব্রেন্টন ট্যারান্টের মতো চরমপন্থীদের ‘ট্যাকটিক্যাল’ এক্সিলারেশনিজমকেই নির্দেশ করে—যাদের লক্ষ্য সামাজিক অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে জাতিগত সংঘাত ত্বরান্বিত করা।
বিপরীতভাবে, মার্ক অ্যান্ড্রেসেনের মতো ‘ইফেক্টিভ এক্সিলারেশনিজম’ (e/acc) প্রবক্তারা একে দেখছেন পুঁজিবাদের যান্ত্রিক গতির মাধ্যমে দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা সমাধানের চূড়ান্ত পথ হিসেবে। এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে এক্সিলারেশনিজমের প্রকৃত দার্শনিক উৎস আজ এক অতল গহ্বরে দাঁড়িয়ে আছে। এই আদর্শিক বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে নব্বইয়ের দশকের সেই অন্ধকার দর্শনে, যা মূলত নিক ল্যান্ডের হাত ধরে বিকশিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক পটভূমি: ওয়ারউইক স্কুল এবং Ccru-র উত্থান
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব বৌদ্ধিক বিদ্রোহের সূচনা হয়। নিক ল্যান্ড এবং সাইবার-ফেমিনিস্ট স্যাডি প্ল্যান্টের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘সাইবারনেটিক কালচার রিসার্চ ইউনিট’ বা Ccru। এটি কেবল একটি একাডেমিক ইউনিট ছিল না, বরং এটি ছিল প্রচলিত দর্শনের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসা একটি ‘পাঙ্ক’ বা বৈপ্লবিক ধারা।
Ccru-র সাথে যুক্ত ছিলেন মার্ক ফিশারের মতো উত্তর-আধুনিক তাত্ত্বিকরা, যারা ল্যান্ডের ‘অ্যাম্ফিটামিন গড’-এর প্রতি অনুরাগ এবং ড্রাগ-ফুয়েল্ড চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও পুঁজির এক ভয়াবহ সংশ্লেষ তৈরি করেছিলেন। এই গোষ্ঠীটি প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনের বাইরে গিয়ে সাইবারনেটিক্স, ফিকশন এবং গূঢ়তত্ত্বের (Occult) মিশেলে এমন এক ‘লেজেন্ড’ তৈরি করে, যেখানে দর্শন হয়ে ওঠে এক ধরণের সাইবার-অ্যাকশন। তবে ল্যান্ডের এই বিদ্রোহ কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ছিল না; এটি ছিল মানবকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষার বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ ঘোষণা। এই তাত্ত্বিক ভিত্তিটিই ল্যান্ডের দর্শনে এক চরম অ্যান্টি-অ্যানথ্রোপোসেন্ট্রিক বা অমানবিক মোড় নিতে শুরু করে।
দার্শনিক ভিত্তি: কান্টীয় ‘নুোমেনন’ এবং অতি-মানবিক বাস্তবতার সন্ধান
নিক ল্যান্ডের প্রাথমিক দর্শন বোঝার জন্য তাঁর ১৯৮৮ সালের প্রবন্ধ Kant, Capital, and the Prohibition of Incest বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই লেখায় তিনি ইমানুয়েল কান্টের ট্রান্সেন্ডেন্টাল আইডিয়ালিজম-এর একটি র্যাডিক্যাল ও বিতর্কিত পুনর্ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। ল্যান্ডের মতে, কান্ট মানুষের জ্ঞানকে ফেনোমেনা (অভিজ্ঞতার জগৎ) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখে নুোমেনন (বস্তু-স্বরূপ)-কে মানুষের জ্ঞানের বাইরে স্থাপন করেছেন। এই ধারণাকে ব্যাখ্যা করতে ল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী অ্যাপার্থাইড ব্যবস্থার বান্টুস্তান রূপক ব্যবহার করেন। তাঁর যুক্তি হলো, যেমন অ্যাপার্থাইড শাসন কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রেখে ক্ষমতার কাঠামো বজায় রাখত, তেমনি কান্টীয় দর্শনও মানুষের জ্ঞানকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ করে বাস্তবতার বৃহত্তর ক্ষেত্রকে অগম্য ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, এটি কান্টের দর্শনের প্রচলিত ব্যাখ্যা নয়; বরং ল্যান্ডের নিজস্ব রূপকধর্মী ও সমালোচনামূলক পাঠ।
এই সমালোচনার ভিত্তিতেই ল্যান্ড তাঁর লিবিডিনাল ম্যাটেরিয়ালিজম (Libidinal Materialism) ধারণা বিকাশ করেন, যেখানে শোপেনহাওয়ারের ‘উইল’, নিটশের জীবন ও ট্র্যাজেডিবিষয়ক চিন্তা এবং ফ্রয়েডের ‘ডেথ ড্রাইভ’-এর ধারণাগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, দর্শনের কাজ মানুষের আত্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তাবোধকে রক্ষা করা নয়; বরং সেই সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে এমন এক নৈর্ব্যক্তিক (impersonal) বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া, যা মানুষের ইচ্ছা, নৈতিকতা বা চেতনার ওপর নির্ভরশীল নয়। এই প্রেক্ষাপটে তিনি হেগেল, হুসার্ল এবং হাইডেগার-এর মতো দার্শনিকদের সমালোচনা করে দাবি করেন যে, তাঁদের দর্শন এখনো মানুষের অভিজ্ঞতা ও চেতনাকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ট্রান্সেন্ডেন্টাল ম্যাটেরিয়ালিস্ট সমালোচনা, যা বাস্তবতাকে মানবকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত করে তার অমানবিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গতিশীল রূপে বোঝার চেষ্টা করবে। পরবর্তী সময়ে এই তাত্ত্বিক ভিত্তিই তাঁর প্রযুক্তি, পুঁজিবাদ এবং অ্যাক্সেলারেশনিজম-সংক্রান্ত চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুঁজিবাদের রূপান্তর: ডিলুজ ও গুত্তারির প্রভাব এবং ল্যান্ডের আপডেট
জিল ডিলুজ এবং ফেলিক্স গুত্তারির ‘ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড সিজোফ্রেনিয়া’ ল্যান্ডের এক্সিলারেশনিজমের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। তারা পুঁজিবাদকে এমন এক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন যা পুরনো সামাজিক কোডগুলো ভেঙে ফেলে (Decoding) এবং মানুষকে এলাকাচ্যুত করে (Deterritorialization)।
ল্যান্ড এই ধারণাকে একটি ‘সফটওয়্যার আপডেট’ প্রদান করেন। ল্যান্ডের মতে, পুঁজিবাদ কেবল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি হচ্ছে ‘ভবিষ্যৎ থেকে আসা এক আক্রমণ’ (Invasion from the future)। ল্যান্ড লক্ষ্য করেন যে, পুঁজিবাদের প্রযুক্তিগত গতি শেষ পর্যন্ত মানুষকে অতিক্রম করে এক ‘আর্টিফিশিয়াল সুপার-ইন্টেলিজেন্স’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে ল্যান্ডের সাথে বামপন্থীদের এক চূড়ান্ত বিরোধ তৈরি হয়:
বামপন্থী রক্ষণশীলতা: ল্যান্ডের মতে, বামপন্থীরা আসলে রক্ষণশীল, কারণ তারা পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যাতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা পায়। একে ল্যান্ড ‘হিউম্যান সিকিউরিটি সিস্টেম’ (HSS) হিসেবে দেখেন।
বিপ্লবী ডানপন্থী বা লিবার্টিরিয়ান: ল্যান্ডীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে লিবার্টিরিয়ানরা প্রকৃত বিপ্লবী, কারণ তারা পুঁজিকে সমস্ত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে চায়, যদিও তারা জানে না যে এই মুক্তি শেষ পর্যন্ত মানব প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটাবে।
পুঁজিবাদের এই যান্ত্রিক গতির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ল্যান্ড এক অমানবিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কল্পনা করেন।
হোয়াইট সুপ্রিমেসি বনাম ইফেক্টিভ এক্সিলারেশনিজম
বর্তমানে এক্সিলারেশনিজম (Accelerationism) শব্দটি সাধারণত দুটি ভিন্ন ধারায় আলোচিত হয়, যদিও গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন যে—উভয় ধারাই নিক ল্যান্ডের প্রাথমিক দার্শনিক অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। প্রথমটি হলো রাইট-উইং এক্সিলারেশনিজম, যা উগ্র ডানপন্থী ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ধারার অনুসারীরা সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মাধ্যমে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দুর্বল করে একটি জাতিগতভাবে বিশুদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনুসরণ করে। ব্রেন্টন ট্যারান্টের মতো সন্ত্রাসীদের লেখায় এ ধরনের ধারণার প্রভাব নিয়ে গবেষণায় আলোচনা হয়েছে, যদিও এই মতাদর্শ ব্যাপকভাবে নিন্দিত এবং মূলধারার রাজনৈতিক বা দার্শনিক চিন্তার অংশ নয়। অন্যদিকে ইফেক্টিভ এক্সিলারেশনিজম (e/acc) মূলত প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে মানবসমাজের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখে। এই ধারার সমর্থকদের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের কিছু উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর নাম আলোচনায় আসে, যেমন মার্ক অ্যান্ড্রেসেন এবং গ্যারি ট্যান। তবে উল্লেখযোগ্য যে, জেফ বেজোসকে (Jeff Bezos) e/acc-এর আনুষ্ঠানিক বা সর্বজনস্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে ধরা হয় না; তাঁর নাম কখনো কখনো প্রযুক্তি-আশাবাদী আলোচনায় এলেও এটি বিতর্কিত। সার্বিকভাবে, রাইট-উইং এক্সিলারেশনিজমের কেন্দ্রবিন্দু রাজনৈতিক সহিংসতা ও জাতিগত চরমপন্থা, আর e/acc-এর মূল জোর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর। উভয় ধারাই নিক ল্যান্ডের চিন্তা থেকে কিছু ধারণা গ্রহণ করলেও তাঁর প্রাথমিক দার্শনিক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বা একমাত্র উত্তরাধিকার হিসেবে এগুলোকে দেখা হয় না।
বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়ন: নিক ল্যান্ডের তাত্ত্বিক কাঠামো অনুযায়ী, এই দুটি ধারাই ‘অ্যানথ্রোপোমরফিক ডিসিমুলেশন’ (Anthropomorphic Dissimulations) বা মানবীয় ছদ্মবেশের শিকার। সন্ত্রাসবাদীরা যখন তাদের জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ধ্বংস চায়, অথবা টেক-ব্রোরা যখন প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের স্বপ্ন দেখে তারা উভয়ই ল্যান্ডের ভাষায় ‘হিউম্যান নার্সিসিজম’-এ আক্রান্ত। ল্যান্ডের আদি দর্শন অনুযায়ী, পুঁজিবাদ বা প্রযুক্তি মানুষের জাতিসত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্যের কোনো তোয়াক্কা করে না; এটি একটি নৈর্ব্যক্তিক শক্তি যা মানুষের সমস্ত ‘সিকিউরিটি সিস্টেম’ ভেঙে ফেলতে উদ্যত।
এই আদর্শিক বিভ্রান্তি সত্ত্বেও ল্যান্ডের মূল দর্শন এক অমোঘ পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
নো-হিউম্যান ফিউচার’ এবং মানব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পতন
নিক ল্যান্ডের দর্শনের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো ‘সিঙ্গুলারিটি’ (Singularity), যা ১৯৯৫ সালের বিখ্যাত ‘Meltdown’ প্রবন্ধে বর্ণিত হয়েছে। ল্যান্ডের মতে, সিঙ্গুলারিটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি হচ্ছে মানুষের সমস্ত বোধগম্যতার এক ‘ট্রমাটিক মেল্টডাউন’ (Traumatic Meltdown)। এখানে ‘হিউম্যান সিকিউরিটি সিস্টেম’ অর্থাৎ মানুষের ধর্ম, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
ল্যান্ড আমাদের এই নির্মম সত্যের মুখোমুখি করেন যে, পুঁজিবাদ আমাদের সমৃদ্ধির জন্য নয়, বরং আমাদের প্রজাতির উত্তরসূরি হিসেবে এক অমানবিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রস্তুত করার একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। ল্যান্ডের দর্শনের সারকথা হলো “Nothing human makes it out of the near-future” (নিকট ভবিষ্যতে মানুষের তৈরি কোনো কিছুই টিঁকে থাকবে না)।
একজন রাজনৈতিক তাত্ত্বিক হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে, সমকালীন ‘এক্সিলারেশনিজম’ মূলত ল্যান্ডের আদি অমানবিক দর্শনের একটি মানবিক সংস্করণ বা বিকৃতি মাত্র। সন্ত্রাসবাদীরা একে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আর টেক-উদ্যোক্তারা একে পুঁজির নতুন মোড়ক দিচ্ছে। কিন্তু মূল ল্যান্ডীয় ধারা আমাদের সতর্ক করে যে, এই গতি শেষ পর্যন্ত মানুষের কোনো আদর্শকেই ধারণ করবে না, বরং এটি মানব প্রজাতির অবসানের মধ্য দিয়ে এক নৈর্ব্যক্তিক মহাজাগতিক বাস্তবতাকে প্রতিষ্ঠা করবে। বর্তমানের এই বিচ্ছিন্ন মতাদর্শগুলোকে এই দার্শনিক প্রেক্ষাপটেই বিচার করা অপরিহার্য।





