Edition:

BD-Feature

Newsletter
Become an authorSign up as readerSign in
Loading sections...
Newsletters
Editorial PoliciesCommunity StandardsRepublishing GuidelinesAnalyticsOur FeedsGet Newsletter
Who we areOur charterOur teamPartners and fundersResource for mediaContact us
Privacy PolicyTerms of ServiceCorrections
Developed by Rackupit IT Solution
Copyright © 2010–2025, The BD-Feature
Academic rigour, journalistic flair
Loading sections...
আন্তর্জাতিক•5 min read

আমেরিকান সংগীতের 'পিতা' স্টিফেন ফস্টার

B
BD Feature•Published July 11, 2026
আমেরিকান সংগীতের 'পিতা' স্টিফেন ফস্টার
https://bdfeature.com/...

আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী যখন ঘনিয়ে আসছে, তখন একটি বিস্ময়কর সমাপতন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে—তা হলো প্রখ্যাত সুরকার স্টিফেন কলিন্স ফস্টারের ২০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৮২৬ সালের ৪ জুলাই জন্ম নেওয়া এই মানুষটি আজ বিশ্বজুড়ে "Father of American Music" বা আমেরিকান সংগীতের জনক হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু একজন সাংস্কৃতিক ইতিহাসবিদের দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায়, ফস্টারের এই সুউচ্চ আসনটি কেবল তার সুরের মূর্ছনায় অর্জিত হয়নি; বরং এটি ছিল 'স্মৃতিশক্তির রাজনৈতিক ব্যবহার' এবং এক সুনিপুণ 'সাংস্কৃতিক বিনির্মাণ' বা কালচারাল কনস্ট্রাকশনের ফল। ১৮৬৪ সালে কপর্দকহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা একজন সুরকার কীভাবে মার্কিন জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে উঠলেন, সেই রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন।

কৌশলগত দ্ব্যর্থবোধকতা: জনপ্রিয়তার গোপন চাবিকাঠি

ফস্টারের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে ছিল তার গানের লিরিক্সে ব্যবহৃত এক বিশেষ রণকৌশল, যাকে আমরা বলতে পারি 'কৌশলগত দ্ব্যর্থবোধকতা' (Strategic Ambiguity)। তিনি তার গানগুলোকে এমনভাবে রচনা করতেন যাতে সেগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যাখ্যা না থাকে। এটি ছিল একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল।

  • গানের রূপক ও অস্পষ্টতা:

Jeanie with the Light Brown Hair (১৮৫৪): এই গানে 'জিনি' চরিত্রটি কি পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছে নাকি সে কেবল অনুপস্থিত, তা ফস্টার রহস্যমণ্ডিত রেখেছিলেন।

Hard Times Come Again No More (১৮৫৪): এখানে 'দুঃসময়' বলতে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার দিকে আঙুল তোলেননি। এটি কি ১৮৫০-এর দশকের অর্থনৈতিক মন্দা (Economic Panic), কোনো মহামারি, নাকি শ্রমজীবী মানুষের (Working Class) চিরকালীন দুর্দশা? এই অস্পষ্টতা গানটিকে সর্বজনীন করে তুলেছিল।

তৎকালীন আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে যখন চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে, তখন ফস্টারের এই সচেতন অস্পষ্টতা তাকে ইউনিয়ন এবং কনফেডারেট—উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

একটি গান, দুটি পৃথিবী: 'Old Folks at Home'-এর প্যারাডক্স

১৮৫১ সালে প্রকাশিত "Old Folks at Home" গানটি ফস্টারের 'খালি পাত্র' নীতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এই গানটিকে উত্তর ও দক্ষিণের দুই বিবদমান পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ দিয়ে পূর্ণ করেছিল। দাসপ্রথা সমর্থক শ্বেতাঙ্গরা মনে করত, গানে বর্ণিত কৃষ্ণাঙ্গ চরিত্রটির পুরনো আস্তানা বা 'প্ল্যান্টেশন'-এর প্রতি টান আসলে দাসপ্রথারই এক পরোক্ষ সমর্থন। অন্যদিকে, দাসপ্রথা বিলোপবাদীরা বা অ্যাবোলিশনিস্টরা মনে করতেন, এই গানটি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মানবিক আবেগ এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনাকে সহানুভূতির সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে ফস্টার ছিলেন একজন নর্দার্ন ডেমোক্র্যাট, যারা মূলত দাসপ্রথা বিলোপের বিরোধী ছিল। তার এই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বাণিজ্যিক গানের মধ্যেকার বৈপরীত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিশ্লেষণ: ফস্টারের ব্যক্তিগত আদর্শের প্রতিফলন পাওয়া যায় তার অপ্রকাশিত নির্বাচনী গানগুলোতে। যেমন, জেমস বুকাননের (James Buchanan) সমর্থনে লেখা "The White House Chair" গানে তিনি স্পষ্টতই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ এবং দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছিলেন। সেখানে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক অধিকারকে 'অন্ধকার চক্রান্ত' (Dark designing band) হিসেবে বর্ণনা করেন। অথচ তার বাণিজ্যিক গানগুলোতে তিনি এই উগ্রতা এড়িয়ে চলতেন, যাতে তার শিট মিউজিক উত্তর ও দক্ষিণ উভয় প্রান্তেই বিক্রি হয়।

মরিসন ফস্টারের পরিকল্পনা: একজন 'আমেরিকান সুরের আদিপিতা' সৃষ্টি

স্টিফেন ফস্টারের মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার বিস্মৃতপ্রায় উত্তরাধিকারকে পুনর্জীবিত করার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন তার ভাই মরিসন ফস্টার। ঐতিহাসিকরা একে "মরিসন’স গ্যাম্বিট" বা মরিসনের চাল হিসেবে অভিহিত করেন। ১৮৯৬ সালে মরিসন তার ভাইয়ের একটি জীবনী প্রকাশ করেন, যা ছিল মূলত তার নিজস্ব রাজনৈতিক প্রচারণার একটি হাতিয়ার।

কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মরিসন চেয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিতে। তিনি স্টিফেনের জন্ম তারিখকে (৪ জুলাই) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। উল্লেখ্য যে, এই একই দিনে আমেরিকার দুই স্থপতি থমাস জেফারসন এবং জন অ্যাডামস মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মরিসন এই কাকতালীয় ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন স্টিফেন ফস্টার আমেরিকার রাজনীতির নয়, বরং 'মেলোডির স্থপতি' বা ফাউন্ডিং ফাদার। এই সুপরিকল্পিত মিথ তৈরির মাধ্যমে তিনি ভাইয়ের সংগীতকে মার্কিন জাতীয়তাবাদের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত করেন।

বর্ণবাদ এবং সহানুভূতির জটিল রসায়ন

ফস্টারের সংগীত জীবনের শুরু হয়েছিল বর্ণবাদী 'মিনস্ট্রেল শো' (Minstrel Shows)-এর হাত ধরে, যেখানে শ্বেতাঙ্গরা মুখে কালো রঙ মেখে কৃষ্ণাঙ্গদের বিদ্রূপ করত। মরিসন ফস্টার পরবর্তীকালে এই কলঙ্কিত ইতিহাসকে 'পরিশোধিত' করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন যে, স্টিফেন মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি 'সহানুভূতি' (Sympathy) থেকেই এই গানগুলো লিখেছিলেন।

মরিসন তার বইতে উল্লেখ করেছিলেন:

"স্টিফেনের সংগীত মানুষের হৃদয়ে প্রবেশের এমন এক পথ খুলে দিয়েছিল, যা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি প্রকৃত আগ্রহ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে।"

এই 'সহানুভূতি' শব্দটি ছিল একটি চতুর রাজনৈতিক শব্দ। এটি ১৮৯০-এর দশকের প্রগতিশীলদের কাছে যেমন গ্রহণযোগ্য ছিল, তেমনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরাও একে পছন্দ করত। কারণ, এটি কৃষ্ণাঙ্গদের সমমর্যাদা না দিয়েও তাদের প্রতি এক ধরণের 'করুণা' প্রদর্শনের সুযোগ করে দিত, যা শ্বেতাঙ্গদের শ্রেষ্ঠত্বকেই পরোক্ষভাবে বজায় রাখত।

ইতিহাস কি কেবল অতীত, নাকি বর্তমানের নির্মাণ?

স্টিফেন ফস্টার নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান সুরকার ছিলেন, কিন্তু আজকের ইতিহাসে তার যে বিশাল মহিমা, তা মূলত তার মৃত্যুর তিন দশক পর গড়ে তোলা একটি 'ফাউন্ডিং মিথ'। মরিসন ফস্টার তার ভাইয়ের গানের অস্পষ্টতাকে পুঁজি করে এমন এক আখ্যান তৈরি করেছিলেন যা বর্তমানকাল পর্যন্ত টিকে আছে। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, ইতিহাস কেবল অতীতের কোনো স্থির দলিল নয়, বরং এটি একটি 'বর্তমানকালীন নির্মাণ' (Present construction)। ৪ জুলাইয়ের মতো দিবসগুলো কেবল পুরনো স্মৃতি রোমন্থন নয়, বরং প্রতিনিয়ত আমাদের জাতীয় পরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার একটি প্রক্রিয়া।

স্টিফেন ফস্টারের উত্তরাধিকার সংগীতের চেয়েও বেশি এক সুপরিকল্পিত জাতীয় আখ্যানের ফসল।

  • আমেরিকান সংগীত
  • 'পিতা'
  • স্টিফেন ফস্টার

Trending Articles

লোহিত সাগরে অস্থিরতা: বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে যে ৩টি প্রভাব আপনার জানা জরুরি

লোহিত সাগরে অস্থিরতা: বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে যে ৩টি প্রভাব আপনার জানা জরুরি

বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেও কেন মানুষ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ভোলে? একটি অদ্ভুত ধাঁধার সমাধান

বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেও কেন মানুষ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ভোলে? একটি অদ্ভুত ধাঁধার সমাধান

সমুদ্র যখন বিষাক্ত নীল: ২০০ মিলিয়ন বছর আগের মহাপ্রলয় কি আবার ফিরে আসছে?

সমুদ্র যখন বিষাক্ত নীল: ২০০ মিলিয়ন বছর আগের মহাপ্রলয় কি আবার ফিরে আসছে?

কেন অর্থনৈতিক মুক্তি মানেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?

কেন অর্থনৈতিক মুক্তি মানেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?

তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ

তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ

Newsletter

Signup to get top news, research, and analysis delivered straight to your inbox.

ADVERTISEMENT

Loading...

You Might Also Like

Loading related articles...
লোহিত সাগরে অস্থিরতা: বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে যে ৩টি প্রভাব আপনার জানা জরুরি
আন্তর্জাতিক

লোহিত সাগরে অস্থিরতা: বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে যে ৩টি প্রভাব আপনার জানা জরুরি

By BD Feature•5 min read

বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেও কেন মানুষ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ভোলে? একটি অদ্ভুত ধাঁধার সমাধান
আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেও কেন মানুষ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ভোলে? একটি অদ্ভুত ধাঁধার সমাধান

By BD Feature•5 min read

সমুদ্র যখন বিষাক্ত নীল: ২০০ মিলিয়ন বছর আগের মহাপ্রলয় কি আবার ফিরে আসছে?
আন্তর্জাতিক

সমুদ্র যখন বিষাক্ত নীল: ২০০ মিলিয়ন বছর আগের মহাপ্রলয় কি আবার ফিরে আসছে?

By BD Feature•5 min read

কেন অর্থনৈতিক মুক্তি মানেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?
আন্তর্জাতিক

কেন অর্থনৈতিক মুক্তি মানেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?

By BD Feature•5 min read

তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ
আন্তর্জাতিক

তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ

By BD Feature•5 min read

 মানবশূন্য ভবিষ্যতের দর্শন
আন্তর্জাতিক

মানবশূন্য ভবিষ্যতের দর্শন

By BD Feature•5 min read